Home > সংবাদ > মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে নেস্ট’র শোক প্রকাশ

টানা আটদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চির বিদায় নিলেন জাতীয় নেতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপি।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে আমরা নেস্ট পরিবার গভীর ভাবে শোকাহত। আমরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

গত ১ জুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মোহাম্মদ নাসিমের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লেও তা থেকে সেরে উঠেছিলেন তিনি। তবে করোনার চিকিৎসা নেওয়ার মাঝেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন নাসিম। পরে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার হয়।

করোনা থেকে সেরে উঠলেও মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই ডিপ কোমায় ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। ডিপ কোমায় থাকা অবস্থাতেই চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

মোহাম্মদ নাসিম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় অন্য তিন নেতার সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর কারাগারে থাকা অবস্থায় শহীদ হন।

মোহাম্মদ নাসিমের মায়ের নাম আমেনা মনসুর। তিনি জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনের প্রথম দিকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। পরে অল্প কিছু দিন ছাত্রলীগের রাজনীতিও করেন। ছাত্ররাজনীতি ছাড়ার পরে যুবলীগের রাজনীতি করলেও ১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ নাসিম। ওই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এরপর ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিমকে দলের একমাত্র সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে তাকে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়।

২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদ নাসিম ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ১/১১ সরকারের দেওয়া মামলার কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি নাসিম। ওই নির্বাচনে তার সন্তান তানভীর শাকিল জয়কে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমকে আবার মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
পারিবারিক জীবনে মোহাম্মদ নাসিমের স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রীর নাম লায়লা আরজুমান্দ। মোহাম্মদ নাসিমের বড় ছেলে তানভীর শাকিল জয় সংসদ সদস্য ছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিমকে আগামীকাল রবিবার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।